যদিও এ করহার উল্টো আড়াই শতাংশে উন্নীত করার চিন্তা আছে বলে জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এছড়া করপোরেট কর কমানো, মূসক পরিধি বাড়ানো, নির্দিষ্ট খাতে শুল্ক ও ভ্যাট ছাড়ের মতো আরো নানা প্রস্তাব দিয়েছে বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন।
গতকাল এনবিআরের কার্যালয়ে প্রাক-বাজেট আলোচনায় এসব প্রস্তাব উঠে আসে। এনবিআরের চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই আলোচনা সভায় মোট ছয়টি ব্যবসায়ী সংগঠন অংশ নেয়।
সভার শুরুতে করহার কমানোর প্রস্তাব তুলে ধরা হয় আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশের (অ্যামচেম) পক্ষ থেকে। ডাবল ট্যাক্সেশন অ্যাভয়ডেন্স এগ্রিমেন্টের (ডিটিএএ) আওতায় সনদ প্রাপ্তির প্রক্রিয়া সহজীকরণ ও দ্রুততর করা, আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বৈদেশিক মুদ্রা রূপান্তরের একটি মানসম্মত পদ্ধতি চালু করা এবং উৎসে করের হার যৌক্তিকীকরণের মাধ্যমে অসামঞ্জস্য দূর করার দাবি জানানো হয় তাদের প্রস্তাবে। অ্যামচেম সভাপতি সৈয়দ এরশাদ আহমেদ বলেন, ‘দেশের অর্থনীতির তুলনায় রাজস্ব আয় বাড়ছে না। ৩০-৪০ শতাংশ মূসক আয় সরকারি কোষাগারে জমা হচ্ছে না। সরকারের পক্ষ থেকে দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর নীতি গ্রহণ করা হলে এসব সমস্যার সমাধান সম্ভব।’
এ সময় এইচএসবিসি বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. মাহবুব উর রহমান বলেন, ‘ব্যাংক খাতে সমান প্রতিযোগিতার পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিদেশী ও স্থানীয় বাণিজ্যিক ব্যাংকের জন্য অভিন্ন করহার নির্ধারণ করা এবং অন্যান্য এশিয়া-প্যাসিফিক দেশের মতো অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের জন্য ০-২০ শতাংশ হারে প্রণোদনামূলক কর সুবিধা চালু করা প্রয়োজন। এসব পদক্ষেপ প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণ, রফতানিকারকদের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগ ও জাতীয় রাজস্ব বাড়াতে সহায়ক হবে।’
দেশে পিওএস মেশিনের কোনো কারখানা নেই। এছাড়া ব্যাংকের স্মার্ট কার্ড আমদানিতেও উচ্চহারে শুল্ক প্রদান করতে হয়। এ হার কমানোর দাবি জানিয়ে মাস্টারকার্ড বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল বলেন, ‘বর্তমানে স্মার্ট কার্ড আমদানিতে সব মিলিয়ে ৭৬ শতাংশ এবং পিওএস মেশিনের ক্ষেত্রে ৩৮-৫৮ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক প্রদান করতে হয়। ডিজিটাল লেনদেনের প্রসারে এ শুল্কহার ১৫ শতাংশে নামিয়ে আনা দরকার। এছাড়া মার্চেন্ট পর্যায়ে নগদবিহীন লেনদেনে অন্তত তিন বছর করছাড় ও প্রণোদনা দেয়া দরকার।’
ইউরোপিয়ান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশের (ইউরোচেম) চেয়ারপারসন নুরিয়া লোপেজ বলেন, ‘এনবিআরের ডিজিটালাইজেশন ও বিকেন্দ্রীকরণ উদ্যোগকে আমরা স্বীকৃতি দিচ্ছি। তবে নীতিমালা ও বাস্তব প্রয়োগের মধ্যে এখনো স্পষ্ট ব্যবধান রয়ে গেছে। বর্তমানে ডিজিটাল ও হার্ড কপি—উভয় ধরনের দাখিল বাধ্যতামূলক হওয়ায় অপ্রয়োজনীয় পুনরাবৃত্তি তৈরি হচ্ছে, যা আধুনিকায়ন প্রক্রিয়াকে ধীর করে এবং ব্যবসার ব্যয় বাড়ায়। বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর ওপর বাড়তে থাকা করের চাপ উদ্বেগজনক। করনীতি এমন হওয়া উচিত যা বিনিয়োগকে উৎসাহিত করবে; নিরুৎসাহিত নয়। একই সঙ্গে যেসব প্রক্রিয়াগত জটিলতা বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা হিসেবে কাজ করছে, ভ্যাট ও কাস্টমস প্রক্রিয়া সহজ করে সেগুলোকে দূর করা প্রয়োজন।’
বাংলাদেশ চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক মো. আমানুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশে এআইওটি ও অ্যাকসেসরিজ শিল্পের বর্তমান বাজার ২ হাজার কোটি টাকারও বেশি। কাস্টমস ডিউটির ফার্স্ট শিডিউল অনুযায়ী, এসব ক্ষেত্রে আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ, রেগুলেটরি শুল্ক ৩ শতাংশ এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে সম্পূরক শুল্ক ২০ শতাংশ পর্যন্ত নির্ধারিত রয়েছে। এর ফলে বাজারের বড় একটি অংশ অবৈধভাবে আমদানীকৃত পণ্যের দখলে রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে পণ্যগুলো ডিক্লারেশন ছাড়া, আন্ডার-ইনভয়েসিংসহ বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে প্রচলিত কাস্টমস প্রক্রিয়া এড়িয়ে দেশে প্রবেশ করে। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় এআইওটি ও অ্যাকসেসরিজ পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে সমুদয় আমদানি শুল্ক ১০ শতাংশ এবং সব রেগুলেটরি ডিউটি, সম্পূরক শুল্ক, মূল্য সংযোজন কর ও আগাম কর অব্যাহতি দেয়া প্রয়োজন।’
নারীদের জন্য ব্যক্তিগত আয়কর সীমা ৪ লাখের বিপরীতে সাড়ে ৪ লাখ নির্ধারণ করার দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ উইমেনস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিডব্লিউসিসিআই) পরিচালক প্রীতি চক্রবর্তী। উইমেন অন্ট্রাপ্রেনিউরস নেটওয়ার্ক ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (ডব্লিউইএনডি) সভাপতি ড. নাদিয়া বিনতে আমিন বলেছেন, শতভাগ নারী মালিকানাধীন কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে করপোরেট আয়কর ২০ শতাংশ করা উচিত।
পণ্য খালাসে টিআরএস বাস্তবায়নে বিশেষ উদ্যোগ নেয়ার দাবি জানিয়েছেন ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (আইবিসিসিআই) সদস্য মতিয়ার রহমান।